গর্ভাবস্থায় পা ফুলে যাওয়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে অনেক নারীর পা, গোড়ালি ও পায়ের পাতায় ফোলা দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক হলেও কখনো কখনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় পা ফুলে কেন?
গর্ভাবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত রক্ত ও তরল জমা হয়, যা শিশুর বৃদ্ধি ও মায়ের শরীরকে সহায়তা করে। এই অতিরিক্ত তরল নিচের দিকে জমে গিয়ে পা ফুলে যেতে পারে।
পা ফুলার সাধারণ কারণ
১. শরীরে অতিরিক্ত পানি জমা
গর্ভাবস্থায় শরীরে তরলের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে পা ও গোড়ালিতে পানি জমে ফোলা দেখা দেয়।
২. হরমোনের পরিবর্তন
হরমোনের কারণে রক্তনালীগুলো কিছুটা শিথিল হয়, ফলে তরল বাইরে জমে যেতে পারে।
৩. জরায়ুর চাপ বৃদ্ধি
বড় হওয়া জরায়ু পায়ের শিরায় চাপ দেয়। এতে রক্ত উপরের দিকে ঠিকমতো ফিরতে না পেরে পায়ে জমে যায়।
৪. দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা
একই অবস্থায় দীর্ঘ সময় থাকলে পায়ে রক্ত ও তরল জমে ফোলা বাড়ে।
৫. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার
বেশি লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, ফলে ফোলা বাড়তে পারে।
৬. গরম আবহাওয়া
গরমে রক্তনালী প্রসারিত হয়, এতে পা বেশি ফুলতে পারে।
কখন এটি বিপজ্জনক হতে পারে?
নিচের লক্ষণ থাকলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো জরুরি—
- হঠাৎ খুব বেশি পা ফুলে যাওয়া
- মুখ ও হাতও ফুলে যাওয়া
- তীব্র মাথাব্যথা
- চোখে ঝাপসা দেখা
- উচ্চ রক্তচাপ
- এক পায়ে বেশি ব্যথা ও লালচে ফোলা
এগুলো Preeclampsia বা রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় পা ফুললে করণীয়
পা উঁচু করে বিশ্রাম নিন
শোয়ার সময় পায়ের নিচে বালিশ দিন।
বাম কাতে ঘুমান
এতে রক্ত চলাচল ভালো হয়।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না
মাঝে মাঝে হাঁটাচলা করুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
কম পানি খেলেও শরীরে পানি জমতে পারে।
কম লবণ খান
অতিরিক্ত লবণ ও ঝাল-ভাজা খাবার কমান।
হালকা ব্যায়াম করুন
হাঁটা বা গর্ভবতীদের জন্য নিরাপদ ব্যায়াম উপকারী হতে পারে।
আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন
টাইট জুতা বা হাই হিল এড়িয়ে চলুন।
চিকিৎসা
সাধারণ ফোলা হলে সাধারণত আলাদা ওষুধ লাগে না। জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনেই উপকার পাওয়া যায়। তবে যদি উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা বা অন্য কোনো জটিলতা থাকে, তাহলে ডাক্তার পরীক্ষা করে চিকিৎসা দেন।
প্রয়োজনে ডাক্তার নিচের পরীক্ষা দিতে পারেন—
- রক্তচাপ পরীক্ষা
- প্রস্রাবে প্রোটিন পরীক্ষা
- রক্ত পরীক্ষা
- কিডনি পরীক্ষা
গর্ভাবস্থায় নিজের ইচ্ছামতো কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ডাঃ আরজুমান আরা (এলমিস)
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমএস (প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ) বিএসএমএমইউ
স্ত্রীরোগ, প্রসূতি, বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক, স্ত্রীরোগবিদ্যা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
চেম্বারঃ
গ্রীন সিটি হাসপাতাল & নিউরো কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
রাজশাহী, শেরশাহ্ রোড,ঝাউতলা মোড়,ডিবি অফিসের পাশে,লক্ষ্মীপুর রাজশাহী।
সময়: শনি-বৃহ: দুপুর ০২ টা- বিকাল ০৪ টা,
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি: রাজশাহী।
সময়: শনি-বৃহ: বিকাল ০৫টা- রাত ১০ টা।
ডাক্তার এর পরামর্শ ফ্রিঃ
প্রথম ভিজিটঃ ৭০০ টাকা
দ্বিতীয় ভিজিটঃ ৫০০ টাকা
সিরিয়ালের জন্য কল করুন: ০১৩২৬-৬৩৩১৬০
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার: ০১৭৬৬-০৮৬৭১৬
আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম, যদি আপনার
রাজশাহীর যেকোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তথ্য ও সিরিয়াল
এবং আমাদের সেবা পেতে যোগাযোগ করুনঃ ০১৩২৬-৬৩৩১৬০
আমরা অনলাইনে আছি এবং সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত।