হার্ট ফেইলিউর (Heart Failure) কী?
হার্ট ফেইলিউর এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃদপিণ্ড শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারে না। এটি হার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়, বরং হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া।
হার্ট ফেইলিউর কেন হয়?
হার্ট ফেইলিউরের সাধারণ কারণগুলো হলো:
- উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার) দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকা।
- করোনারি আর্টারি ডিজিজ (হার্টের রক্তনালী সংকুচিত হওয়া)।
- হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর হার্টের পেশী দুর্বল হয়ে যাওয়া।
- হার্টের ভালভের রোগ।
- কার্ডিওমায়োপ্যাথি (হার্টের পেশীর রোগ)।
- ডায়াবেটিস।
- জন্মগত হৃদরোগ।
- হৃদস্পন্দনের অনিয়ম (Arrhythmia)।
- কিডনি রোগ।
- অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান ও স্থূলতা।
হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ
- শ্বাসকষ্ট, বিশেষ করে হাঁটাহাঁটি বা সিঁড়ি ভাঙার সময়
- শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া
- দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়া
- পা, গোড়ালি বা পেট ফুলে যাওয়া
- ওজন দ্রুত বেড়ে যাওয়া (শরীরে পানি জমার কারণে)
- কাশি, বিশেষ করে রাতে
- বুক ধড়ফড় করা
- ক্ষুধামন্দা ও দুর্বলতা
হার্ট ফেইলিউর নির্ণয়ের জন্য কী কী পরীক্ষা করা হয়?
১. ইকোকার্ডিওগ্রাম (Echo)
হার্ট ফেইলিউর নির্ণয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এতে হার্ট কতটা কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করছে তা দেখা যায়।
২. ইসিজি (ECG)
হার্টের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ ও হার্টবিটের সমস্যা শনাক্ত করতে।
৩. বুকের এক্স-রে
হার্ট বড় হয়েছে কি না এবং ফুসফুসে পানি জমেছে কি না তা দেখতে।
৪. রক্ত পরীক্ষা
- BNP বা NT-proBNP
- কিডনি ফাংশন
- লিভার ফাংশন
- থাইরয়েড পরীক্ষা
- রক্তশূন্যতা পরীক্ষা
৫. স্ট্রেস টেস্ট
হার্টের কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য।
৬. করোনারি এঞ্জিওগ্রাম
হার্টের রক্তনালীতে ব্লক আছে কি না তা দেখার জন্য।
হার্ট ফেইলিউর হলে করণীয়
- দ্রুত একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
- নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন।
- লবণ কম খান।
- ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করুন।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- নিয়মিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম করুন।
- প্রতিদিন ওজন মাপুন; হঠাৎ ওজন বেড়ে গেলে চিকিৎসককে জানান।
চিকিৎসা
চিকিৎসা রোগের কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।
ওষুধ
- ACE Inhibitor বা ARB
- Beta-blocker
- Diuretic (শরীরের অতিরিক্ত পানি কমাতে)
- Mineralocorticoid receptor antagonist
- SGLT2 inhibitor
বিশেষ চিকিৎসা
- পেসমেকার বা CRT ডিভাইস
- ICD (Implantable Cardioverter Defibrillator)
- গুরুতর ক্ষেত্রে হার্ট সার্জারি বা হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট
কখন জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে?
নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান:
- হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট
- বুকে তীব্র ব্যথা
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- ঠোঁট বা আঙুল নীল হয়ে যাওয়া
- দ্রুত পা বা শরীর ফুলে যাওয়া
হার্ট ফেইলিউরের চিকিৎসা সাধারণত করেন একজন কার্ডিওলজিস্ট (হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ)। নিয়মিত চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী দীর্ঘদিন ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
ডাঃ এ.এস.এম. সায়েম
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
ডি-কার্ড (এনআইসিভিডি)
এমএসিপি (আমেরিকা)।
ক্লিনিক্যাল এবং ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট।
ইকোকার্ডিওগ্রাফীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
চেম্বার:
নিউ হ্যাভেন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার
সময়: বিকেল ৩টা হতে রাত ৯টা
সিরিয়ালের জন্য কল করুন: ০১৩২৬-৬৩৩১৬০
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার: ০১৭৬৬-০৮৬৭১৬
আমাদের সাইটে আপনাকে স্বাগতম, যদি আপনার
রাজশাহীর যেকোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তথ্য ও সিরিয়াল
এবং আমাদের সেবা পেতে যোগাযোগ করুনঃ ০১৩২৬-৬৩৩১৬০
আমরা অনলাইনে আছি এবং সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত।