
কিডনির পাথর নাকি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা—দুইটির ব্যথা অনেক সময় একরকম মনে হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখে পার্থক্য বোঝা যায়।
কিডনির পাথরের লক্ষণ
- হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
- ব্যথা সাধারণত কোমরের একপাশে বা পিঠে শুরু হয়ে তলপেট, কুঁচকি বা যৌনাঙ্গের দিকে ছড়িয়ে যায়।
- ব্যথা ঢেউয়ের মতো ওঠানামা করে।
- প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা রক্ত দেখা যেতে পারে।
- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হতে পারে।
- বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
- জ্বর ও কাঁপুনি থাকলে সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার লক্ষণ
- বুকজ্বালা বা পেটের ওপরের অংশে জ্বালাপোড়া।
- খাবার খাওয়ার পর পেট ফেঁপে যাওয়া বা অস্বস্তি।
- টক ঢেকুর ওঠা।
- হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ব্যথা, যা সাধারণত খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- গ্যাস বের হলে বা ঢেকুর উঠলে কিছুটা আরাম লাগে।
- বমি বমি ভাব থাকতে পারে, তবে প্রস্রাবের কোনো সমস্যা সাধারণত থাকে না।
কীভাবে পার্থক্য বুঝবেন?
| কিডনির পাথর | গ্যাস্ট্রিক |
|---|---|
| কোমর বা পাশের তীব্র ব্যথা | বুক বা পেটের ওপরের অংশে জ্বালা |
| ব্যথা কুঁচকিতে ছড়ায় | খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত |
| প্রস্রাবে রক্ত বা জ্বালাপোড়া হতে পারে | প্রস্রাব স্বাভাবিক থাকে |
| অস্থির লাগা, এক জায়গায় বসে থাকতে কষ্ট হয় | বসে বা বিশ্রামে কিছুটা আরাম পাওয়া যায় |
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
- অসহ্য কোমর বা পেটব্যথা হলে।
- প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে।
- জ্বর, কাঁপুনি ও ব্যথা একসঙ্গে থাকলে।
- বারবার বমি হলে।
- প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে বা খুব কম হলে।
কী পরীক্ষা করলে নিশ্চিত হওয়া যায়?
- প্রস্রাব পরীক্ষা (Urine R/E)
- আল্ট্রাসনোগ্রাম (USG KUB)
- প্রয়োজনে CT KUB (কিডনির পাথর নির্ণয়ে সবচেয়ে নির্ভুল পরীক্ষা)
- গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সন্দেহ হলে প্রয়োজনে এন্ডোস্কোপি করা হতে পারে।
পরামর্শ: যদি ব্যথা কোমরের একপাশে শুরু হয়ে কুঁচকিতে ছড়ায় এবং প্রস্রাবে সমস্যা থাকে, তাহলে কিডনির পাথরের সম্ভাবনা বেশি। আর যদি খাবারের পর বুকজ্বালা, টক ঢেকুর ও পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি হয়, তাহলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
নেফ্রোলজী/কিডনী বিশেষজ্ঞ